দুই সদস্যের ঢাবি শিক্ষক সমিতির বিবৃতিতে সংগঠনের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
(ঢাবি) শিক্ষক সমিতির ১০ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারের
দাবিতে দেওয়া বিবৃতি ঐ সংগঠনকে বিতর্কিত করে তুলছে। সমিতির সভাপতি জানান যে তার পূর্ণ
সম্মতি ছাড়াই বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে। সংগঠনটি এখন মাত্র দুইজন সদস্য পরিচালনা করছেন।
বৃহস্পতিবার
নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ফেইসবুক পেইজ থেকে প্রকাশিত ঢাবি শিক্ষক সমিতির বিবৃতি অনুযায়ী,
১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ দ্বারা পরিচালিত একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সরাসরি রাষ্ট্রীয় নির্দেশের পরিবর্তে, তথ্যানুসন্ধান কমিটি ও
ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কর্মীদের শাস্তি দেওয়ার কোনো কর্তৃত্ব
রাখে না।
আরও জানানো
হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ববর্তী প্রশাসনের বিরুদ্ধে ৭০ থেকে ৮০ জন শিক্ষককে একাডেমিক
ও প্রশাসনিক কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া এবং যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের জনসমক্ষে লাঞ্ছিত
করার অভিযোগ রয়েছে। তারা ঢাবি প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ‘মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক নির্যাতন’
বলে অভিহিত করেন।
ঢাবি শিক্কক
সমিতির সংবিধান বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ১৫ সদস্যের নির্বাহী কমিটির মেয়াদ ২০২৪ সালের
৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ধারা ৬(খ)(৫) অনুযায়ী নতুন প্যানেল নির্বাচিত না
হওয়া পর্যন্ত ঐ কমিটিকে তত্ত্বাবধায়ক ভূমিকায় থাকতে হবে।
কিন্তু
চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি স্থগিত নির্বাচন এবং সাধারণ শিক্ষকদের কাছে কমিটির প্রাসঙ্গিকতা
কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে সংগঠনের সহ-সভাপতি, কোষাধ্যক্ষ ও যুগ্ম সম্পাদকসহ ১১ জন
সদস্য পদত্যাগ করেন। ধারা (খ)(৫) অনুসারে তাদের নতুন কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত নিজ
নিজ পদে বহাল থাকার কথা থাকলেও, তারা পদত্যাগের পথই বেছে নেন। তারা ‘তত্ত্বাবধায়ক’
ভূমিকা প্রত্যাখ্যান করে যুক্তি দেখান যে নতুন ম্যান্ডেট (নির্বাচন) ছাড়া কমিটি অবৈধ
ও অকার্যকর।
পূর্বে একজন সদস্যের পদত্যাগ, একজন সদস্যের মৃত্যু এবং একজন নিষ্ক্রিয় সদস্যের মিলিয়ে কমিটিতে বাকি রইলেন কেবল সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিন্নাত হুদা।
অধ্যাপক
ভূঁইয়া বলেন, সাধারণ সম্পাদক বৃহস্পতিবারের বিবৃতিটি প্রকাশ করেছেন, যাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সিন্ডিকেটের একজন অধ্যাপককে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত এবং আরও ৬ জনকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক
দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানানো হয়েছে। তিনি জনসমক্ষে এই সিদ্ধান্ত
আসার আগে অপেক্ষা করার অনুরোধ করেছিলেন বলে জানান।
তিনি বলেন,
একটি শিক্ষক সমিতি মাত্র দুইজন চালাতে পারে না। এই দুইজন গত দুই বছরে কার্যালয়েও যাননি।
অধ্যাপক
হুদা সংগঠনের ফাটল নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার বলেন, এটা ‘আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়’।
দুই সদস্যের এই ব্যবস্থা সংবিধানসিদ্ধ। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানের
কাছে নতুন নির্বাচন আয়োজনের অনুরোধ করে ইতিমধ্যেই একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু,
নির্বাচনে বিলম্ব এবং ‘তত্ত্বাবধায়ক’ পরিস্থিতি (যা ধারা ৫(খ) অনুসারে সাময়িক হওয়ার
কথা ছিল) দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতার
জন্ম দেয়।
২২ জুন
ও ২ জুলাইয়ের বৈঠকে নেওয়া সিন্ডিকেটের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ এবং জুনে আরও তিনজন শিক্ষককে
বরখাস্ত করার পর শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষকের মোট সংখ্যা এখন ১০।
উল্লেখ্য,
২০২৪ সালের ঢাবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে, বিএনপি-সমর্থিত সাদা দল অংশগ্রহণ করেনি।
ফলে তৎকালীন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত নীল দল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সকল পদে জয়লাভ করে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে
সংগঠনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্ব করার বৈধতা রাখে কি-না তা নিয়ে
প্রশ্ন উঠেছে।
