চুরি ও অনিয়ম ধরা পড়ায় প্রত্যাহার বাংলাদেশিদের ৩২৫ গবেষণাপত্র
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই) বিভাগের একজন অধ্যাপকের নাম মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খান। তিনি নিজেকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গবেষক বলেও দাবি করেন।
অবশ্য কয়েকটি সুপরিচিত জার্নাল বা সাময়িকী মনিরুজ্জামানের ২৬টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করেছে। এসব গবেষণার ছয়টিতে তিনি মূল লেখক এবং বাকিগুলোতে সহলেখক ছিলেন। জার্নালগুলো বলছে, ভুয়া বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন যোগ করা, তথ্যের অসংগতি, চৌর্যবৃত্তিসহ নানা অনিময়ের অভিযোগে গবেষণাপত্রগুলো প্রত্যাহার করেছে তারা।
মনিরুজ্জামান খান শুধু একটি উদাহরণ। প্রথম আলো ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুন সময়ে প্রত্যাহার হওয়া অন্তত ৩২৫টি গবেষণাপত্রের খোঁজ পেয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গবেষকের সংযুক্তি রয়েছে।বিশ্বের যেকোনো দেশের গবেষকদের ক্ষেত্রে গবেষণাপত্র জার্নাল বা সাময়িকীতে প্রকাশ করা বৈজ্ঞানিক ও একাডেমিক জগতের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। জার্নালে প্রকাশের মাধ্যমে গবেষক আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর কাজের মেধাস্বত্ব ও একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করেন। বিশ্বখ্যাত জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ পেলে তা গবেষকদের মর্যাদা বাড়ায় এবং শিক্ষকতার ক্ষেত্রে পদোন্নতিতেও ভূমিকা রাখে।
গবেষকেরা বলছেন, কোনো দেশের একের পর এক গবেষকের গবেষণা প্রত্যাহার হলে তা ওই দেশের গবেষকদের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে ফেলে। নতুন গবেষণা সুপরিচিত জার্নালে প্রকাশ কঠিন হয়ে পড়ে।অধ্যাপক কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদের প্রায় ৪৫০টি গবেষণা প্রায় ২০ হাজার বার উদ্ধৃত হয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, একেকটি গবেষণা প্রত্যাহারের ঘটনা ফুটবল মাঠের একেকটি লাল কার্ডের মতো। বাংলাদেশিদের গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের সংখ্যা এখন উদ্বেগজনক।বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ৩২৫টি গবেষণার মধ্যে ৪৪টিতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ৪২টিতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ৩২টিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ২১টিতে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি (ইউআইইউ) এবং ২০টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নাম রয়েছে।
অন্যদিকে ১১টি করে গবেষণায় নাম আছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের। ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (১০), নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (১০), বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি (১০), বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (৭), গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (৬) গবেষকেরাও রয়েছেন এই তালিকায়।