প্যারিসে ‘ডার্ক ডে’ পালনে বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের মানববন্ধন

প্যারিসের রিপাবলিক চত্বরে ‘ডার্ক ডে’ উপলক্ষে মানববন্ধন

প্যারিস | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘গোত্রবাদী সৌদি ওয়াহাবিবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা দিবস’ আখ্যা দিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বরকে ‘ডার্ক ডে’ বা ‘আঁধার দিবস’ হিসেবে পালন করেছে বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের ফ্রান্স শাখা। বুধবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ঐতিহাসিক প্লাস দ্য লা রিপাবলিক (Place de la République) চত্বরে এ উপলক্ষে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রবর্তক আল্লামা ইমাম হায়াতের আহ্বানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্যারিস ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশ নেন।

আয়োজকেরা ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বরকে মুসলিম মিল্লাত ও সমগ্র মানবমণ্ডলীর জন্য ‘আঁধার দিবস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামের কেন্দ্রস্থল ও কেবলাভূমি আল আরবে ওই দিনে সৌদি শাসন প্রতিষ্ঠা ইসলামের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ধারায় গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাহ এনামুল হাসান মাওলা। এতে বক্তব্য দেন গোলাম মাওলা হিমেল, মামুন রশিদ, সাইফুল আলম সবুজ, শরিয়ত উল্লাহ মিলন, সাখাওয়াত হোসেন, ডালিয়া নিশাত, আফরোজা লিপি, আরফা খাতুন ও রূপা হকসহ অন্যান্য বক্তা।

কর্মসূচিতে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণও ছিল। স্কুলশিক্ষার্থী ইনফি হাসিন সিনিন ও রাফিদ হোসেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বক্তব্য দেয়।

বক্তারা বলেন, কেবলাভূমি আল আরব তাদের দৃষ্টিতে নিছক একটি রাষ্ট্র বা ভূখণ্ড নয়; এটি সত্য ও জীবনের কেবলাভূমি এবং দ্বীনের প্রাণকেন্দ্র। তাদের ভাষায়, “কেবলাভূমি বিশেষ কোনো সম্প্রদায়ের নয়, সমগ্র মিল্লাতের ঠিকানা। কেবলাভূমি সব মুমিনের ঈমানী নাগরিকত্ব।”

বক্তারা সৌদি আরবের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ওয়াহাবি মতাদর্শের সমালোচনা করে বলেন, পবিত্র ভূমির ওপর কোনো নির্দিষ্ট গোত্র, মতবাদ বা গোষ্ঠীর একচ্ছত্র কর্তৃত্ব থাকা উচিত নয়। আয়োজকদের দাবি, সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর আরব উপদ্বীপে ইসলামের বহু ঐতিহাসিক নিদর্শন, মাজার ও ধর্মীয় ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তারা পবিত্র কেবলাভূমির ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং মুসলিম মিল্লাতের বিভিন্ন ইসলামী ঐতিহ্য অনুসরণের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

কর্মসূচিতে ‘খেলাফতে ইনসানিয়াত’ ধারণার কথাও তুলে ধরেন বক্তারা। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি আহলে সুন্নাতের নির্দেশিত জীবনব্যবস্থার মানবিক রূপরেখা এবং সর্বজনীন মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও মুক্ত মানবতার অখণ্ড বিশ্বব্যবস্থার একটি দর্শন।

বক্তারা বলেন, তাদের আন্দোলন কোনো জাতি বা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। তাদের দাবি, এর লক্ষ্য ইসলামের আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক জনমত সৃষ্টি করা।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানের মাধ্যমে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। একই উপলক্ষে যুক্তরাজ্যের লন্ডনেও বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের উদ্যোগে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Popular posts from this blog

চোখের জলে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন নেইমার

বিদেশি ঋণ ছাড়াল ১১৩ বিলিয়ন ডলার

হারতে বসলে ইসরাইলের পক্ষে আমরা যুদ্ধে নামবো: উগান্ডার সেনাপ্রধান